লজিক গেট/রম

testwiki থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন

রম বা শুধু পড়ার মেমোরি হলো এমন একটি মেমোরি সার্কিট যেখানে তথ্য একবার লেখা হয় এবং বারবার পড়া যায়। বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য থাকে। কম্পিউটারের বায়োস থেকে শুরু করে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার পর্যন্ত সব জায়গায় রম আছে।

ভূমিকা: রম কী এবং কেন দরকার?

পাথরে খোদাই করা লেখার উপমা

প্রাচীন মিশরে পিরামিডের দেওয়ালে হায়ারোগ্লিফিক লেখা আছে। হাজার বছর পরেও সেই লেখা অক্ষুণ্ণ। বৃষ্টি আসুক, ঝড় আসুক, রাত হোক বা দিন হোক, লেখা থাকবেই।

রম ঠিক এরকম। একবার প্রোগ্রাম করা হলে বিদ্যুৎ ছাড়াও তথ্য থাকে। কোনো ব্যাটারি লাগে না, কোনো রিফ্রেশ লাগে না।

রম কেন দরকার?

কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় র‍্যাম সম্পূর্ণ খালি থাকে। প্রসেসর প্রথমে কোথা থেকে নির্দেশ নেবে? সেই প্রথম নির্দেশগুলো রমে থাকে।

তোমার মোবাইলে যখন নতুন অ্যাপ ইনস্টল না করেও ক্যামেরা চলে, কারণ ক্যামেরার মূল প্রোগ্রাম রমে আছে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের টাইমার প্রোগ্রাম, টিভির চ্যানেল তালিকা পুনরুদ্ধারের কোড, গাড়ির ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রাম সব রমে থাকে।

রমের মূল বৈশিষ্ট্য

তিনটি মূল গুণ

অনুদবায়িতা: বিদ্যুৎ ছাড়াও তথ্য থাকে। এটাই রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

শুধু পড়া: সাধারণ অবস্থায় লেখা যায় না, শুধু পড়া যায়। তাই নাম রিড অনলি মেমোরি।

নির্ভরযোগ্যতা: র‍্যামের মতো ক্যাপাসিটর লিকের সমস্যা নেই। একবার লেখা তথ্য বহু বছর থাকে।

রম ও র‍্যামের তুলনা
বৈশিষ্ট্য রম র‍্যাম
বিদ্যুৎ ছাড়া তথ্য থাকে হারায়
লেখার সুবিধা সীমিত বা একবার যেকোনো সময়
পড়ার গতি দ্রুত দ্রুত
ব্যবহার স্থায়ী প্রোগ্রাম সাময়িক তথ্য
উদাহরণ বায়োস, ফার্মওয়্যার কাজ চলাকালীন ডেটা

রমের সীমাবদ্ধতা

সাধারণ রমে একবার লেখার পরে পরিবর্তন করা যায় না। তাই ভুল প্রোগ্রাম করলে সংশোধনের সুযোগ নেই। আধুনিক রম প্রকারগুলো এই সমস্যা অনেকটা সমাধান করেছে।

রমের অভ্যন্তরীণ গঠন

ডায়োড ম্যাট্রিক্সের উপমা

ধরো একটা বড় জালের মতো কাঠামো আছে। আনুভূমিক তার ও উল্লম্ব তারের প্রতিটি সংযোগস্থলে হয় একটা ডায়োড আছে অথবা নেই। ডায়োড থাকলে সংযুক্ত, না থাকলে বিচ্ছিন্ন।

এটাই রমের মূল গঠন। আনুভূমিক তারগুলো হলো ওয়ার্ড লাইন, উল্লম্ব তারগুলো হলো বিট লাইন।

ওয়ার্ড লাইন ও বিট লাইন

ওয়ার্ড লাইন: অ্যাড্রেস ডিকোডার থেকে আসে। একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় একটি ওয়ার্ড লাইন সক্রিয় হয়।

বিট লাইন: প্রতিটি বিট লাইন একটি ডেটা বিটের আউটপুট।

৪×৪ রম ম্যাট্রিক্সের উদাহরণ
ওয়ার্ড লাইন D3 D2 D1 D0 সংরক্ষিত মান
W0 ১ ০ ১ ১ ১০১১
W1 ০ ১ ১ ০ ০১১০
W2 ১ ১ ০ ০ ১১০০
W3 ০ ০ ০ ১ ০০০১

যে সংযোগস্থলে ডায়োড আছে সেখানে ১, নেই সেখানে ০।

অ্যাড্রেস ডিকোডার

লিফটের বোতামের উপমা

একটি ১০ তলা বিল্ডিংয়ের লিফটে ১০টি বোতাম আছে। ৫ নম্বর বোতাম চাপলে শুধু ৫ম তলায় যায়। একসাথে দুটো বোতাম চাপলেও একটা তলায় যায়।

রমের অ্যাড্রেস ডিকোডার ঠিক এরকম। n বিটের ঠিকানা ইনপুট নিয়ে ২nটি আউটপুটের মধ্যে একটিমাত্র সক্রিয় করে।

২-থেকে-৪ ডিকোডার

দুটি ঠিকানা বিট A1A0 থেকে চারটি ওয়ার্ড লাইনের একটি সক্রিয় করে।

২-থেকে-৪ ডিকোডারের সত্যক সারণী
A1 A0 W0 W1 W2 W3 ব্যাখ্যা
০ ০ ১ ০ ০ ০ ঠিকানা ০, প্রথম সারি
০ ১ ০ ১ ০ ০ ঠিকানা ১, দ্বিতীয় সারি
১ ০ ০ ০ ১ ০ ঠিকানা ২, তৃতীয় সারি
১ ১ ০ ০ ০ ১ ঠিকানা ৩, চতুর্থ সারি

বুলিয়ান রাশি:

W0=A1‾⋅A0‾
W1=A1‾⋅A0
W2=A1⋅A0‾
W3=A1⋅A0

রম দিয়ে লজিক ফাংশন বাস্তবায়ন

রমের অসাধারণ ব্যবহার

রম শুধু তথ্য সংরক্ষণ নয়, যেকোনো লজিক ফাংশনও বাস্তবায়ন করতে পারে। এটা রমের সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যবহার।

ধারণাটা সহজ: ইনপুটগুলোকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করো। রমে প্রতিটি ঠিকানায় সেই ইনপুট সমন্বয়ের আউটপুট লিখে রাখো।

রম দিয়ে লজিক ফাংশন বাস্তবায়ন

রমের অসাধারণ ব্যবহার

রম শুধু তথ্য সংরক্ষণ নয়, যেকোনো লজিক ফাংশনও বাস্তবায়ন করতে পারে। এটা রমের সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যবহার।

ধারণাটা সহজ: ইনপুটগুলোকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করো। রমে প্রতিটি ঠিকানায় সেই ইনপুট সমন্বয়ের আউটপুট লিখে রাখো।

উদাহরণ: রম দিয়ে যোগকারী

দুটি দুই-বিট সংখ্যার যোগকারী রম দিয়ে তৈরি করো।

ইনপুট: A1A0 এবং B1B0, মোট ৪ বিট। আউটপুট: তিন বিটের যোগফল S2S1S0।

ঠিকানা বিট = ৪, তাই রমে ২4=১৬টি ঘর লাগবে।

রম দিয়ে যোগকারীর সত্যক সারণী (নমুনা)
A1A0 B1B0 ঠিকানা যোগফল (দশমিক) S2S1S0
০০ ০০ ০০০০ ০ ০০০
০১ ১০ ০১১০ ৩ ০১১
১১ ১১ ১১১১ ৬ ১১০

এভাবে যেকোনো জটিল লজিক ফাংশন রম দিয়ে বাস্তবায়ন করা যায়। গেটের জায়গায় রম ব্যবহার করলে ডিজাইন পরিবর্তন করতে শুধু রমের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করলেই হয়।

মাস্ক রম

ছাপাখানার উপমা

একটি বইয়ের ছাপাখানায় একবার ব্লক তৈরি হলে লক্ষ কপি ছাপা যায়। কিন্তু ব্লক তৈরি করতে প্রথমে অনেক খরচ। একবার ব্লক তৈরি হলে প্রতিটি কপির খরচ খুব কম।

মাস্ক রম ঠিক এরকম। কারখানায় চিপ তৈরির সময়ই প্রোগ্রাম করা হয়। প্রথমবার তৈরিতে খরচ বেশি, কিন্তু বেশি পরিমাণে তৈরি করলে প্রতিটির দাম কম।

মাস্ক রমের গঠন

মাস্ক রমে ট্রানজিস্টর ম্যাট্রিক্স ব্যবহার হয়। প্রতিটি সংযোগস্থলে হয় ট্রানজিস্টর আছে অথবা নেই।

ট্রানজিস্টর আছে: সেই বিট ০। ট্রানজিস্টর নেই: সেই বিট ১।

এই সংযোগ বা বিচ্ছিন্নতা চিপ তৈরির সময় ফটোলিথোগ্রাফি মাস্ক দিয়ে নির্ধারিত হয়। তাই নাম মাস্ক রম।

মাস্ক রমের বৈশিষ্ট্য
বৈশিষ্ট্য বিবরণ
প্রোগ্রামিং কারখানায়, ব্যবহারকারী পরিবর্তন করতে পারে না
খরচ বেশি পরিমাণে সস্তা, কম পরিমাণে ব্যয়বহুল
নির্ভরযোগ্যতা অত্যন্ত বেশি
ব্যবহার গেম কার্ট্রিজ, ক্যালকুলেটর রম
সীমাবদ্ধতা একবার তৈরি হলে পরিবর্তন অসম্ভব

প্রম: একবার প্রোগ্রামযোগ্য রম

ফিউজ তারের উপমা

বৈদ্যুতিক ফিউজ একবার পুড়ে গেলে আর কাজ করে না। পরিবর্তন করতে নতুন ফিউজ লাগাতে হয়।

প্রম চিপে ঠিক এরকম ফিউজ আছে। কারখানা থেকে সব ফিউজ অক্ষত অবস্থায় আসে, মানে সব বিট ১। প্রোগ্রামার যে সংযোগস্থলে ০ চায়, সেখানে উচ্চ বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে ফিউজ পুড়িয়ে দেয়।

প্রম প্রোগ্রামিং

প্রম প্রোগ্রামার একটি বিশেষ যন্ত্র যেটা প্রম চিপে প্রোগ্রাম করে।

ধাপ ১: চিপটি প্রোগ্রামারে বসানো হয়। ধাপ ২: কম্পিউটার থেকে প্রোগ্রামের বাইনারি ফাইল দেওয়া হয়। ধাপ ৩: প্রোগ্রামার প্রতিটি ঘরে যায় এবং ০ লিখতে হলে উচ্চ ভোল্টেজ দিয়ে ফিউজ পোড়ায়। ধাপ ৪: প্রোগ্রামিং শেষে যাচাই করা হয়।

প্রম প্রোগ্রামিং প্রক্রিয়া
ধাপ অবস্থা ফিউজ বিটের মান
কারখানা থেকে প্রাথমিক সব অক্ষত সব ১
প্রোগ্রামিং (০ লিখতে) উচ্চ ভোল্টেজ পুড়ে যায় ০
প্রোগ্রামিং (১ রাখতে) কোনো ভোল্টেজ নেই অক্ষত থাকে ১
ব্যবহারের সময় স্বাভাবিক অপরিবর্তিত নির্ধারিত মান

একবার ফিউজ পুড়ে গেলে আর ফেরানো যায় না। তাই প্রোগ্রামিংয়ে ভুল হলে পুরো চিপ নষ্ট।

ইপিরম: অতিবেগুনি আলোয় মোছার রম

রোদে বিবর্ণ হওয়ার উপমা

কিছু কালি রোদের অতিবেগুনি আলোয় বিবর্ণ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ রোদে রাখলে লেখা মুছে যায়।

ইপিরম চিপের তথ্যও অতিবেগুনি আলোয় মুছে যায়। চিপের উপরে একটি কাচের জানালা আছে। সেই জানালা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অতিবেগুনি আলো দিলে সব তথ্য মুছে যায়।

ইপিরম-এর ভাসমান গেট

ইপিরম কোষে একটি বিশেষ মসফেট ট্রানজিস্টর আছে যার দুটি গেট আছে।

নিয়ন্ত্রণ গেট: স্বাভাবিক গেট। ভাসমান গেট: সম্পূর্ণ অন্তরক দিয়ে ঘেরা, কোনো সংযোগ নেই।

লেখার সময় উচ্চ ভোল্টেজে ইলেকট্রন ভাসমান গেটে টানেলিং করে ঢোকে। সেখানে আটকে যায়। বিদ্যুৎ ছাড়াও থাকে।

মোছার সময় অতিবেগুনি আলোর ফোটন ইলেকট্রনদের শক্তি দেয়। তারা অন্তরক ভেদ করে বেরিয়ে আসে।

ইপিরম কোষের অবস্থা
ভাসমান গেটের অবস্থা ট্রানজিস্টর বিটের মান ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন নেই চালু হয় ১ মুছে ফেলার পরের অবস্থা
ইলেকট্রন আছে বন্ধ থাকে ০ প্রোগ্রাম করার পরের অবস্থা

ইইপিরম: বৈদ্যুতিকভাবে মোছার রম

ডিজিটাল নোটবুকের উপমা

একটা ডিজিটাল নোটবুকে একটা পৃষ্ঠা মুছে নতুন কিছু লেখা যায়। পুরো বই মুছতে হয় না। ইপিরমে পুরো চিপ মুছতে হতো, কিন্তু ইইপিরমে নির্দিষ্ট বাইট মুছে লেখা যায়।

ফাউলার-নর্ডহেইম টানেলিং

ইইপিরমে বৈদ্যুতিকভাবে ইলেকট্রন ঢোকানো ও বের করা যায়। এটা সম্ভব হয় ফাউলার-নর্ডহেইম টানেলিং পদ্ধতিতে।

লেখার সময় ভাসমান গেটে ইলেকট্রন পাঠানো হয়। মোছার সময় ভাসমান গেট থেকে ইলেকট্রন টেনে বের করা হয়।

এই কাজে প্রায় ১২ থেকে ২১ ভোল্ট লাগে। চিপের ভেতরেই চার্জ পাম্প সার্কিট এই উচ্চ ভোল্টেজ তৈরি করে।

রমের বিভিন্ন প্রকারের তুলনা
প্রকার মোছার পদ্ধতি মোছার একক পুনর্লিখন সংখ্যা
মাস্ক রম মোছা যায় না প্রযোজ্য নয় ০
প্রম মোছা যায় না প্রযোজ্য নয় ০
ইপিরম অতিবেগুনি আলো পুরো চিপ প্রায় ১০০-১০০০
ইইপিরম বৈদ্যুতিক বাইট ধরে প্রায় ১০,০০০-১০০,০০০
ফ্ল্যাশ বৈদ্যুতিক ব্লক ধরে প্রায় ১০,০০০-১০০,০০০

ফ্ল্যাশ মেমোরি: আধুনিক রম

শ্রেণিবদ্ধ মুছে ফেলার উপমা

একটা পুরনো ব্ল্যাকবোর্ডে এক লাইন মোছা কঠিন, পুরো বোর্ড একবারে মোছা সহজ। ফ্ল্যাশ মেমোরিতেও পুরো ব্লক একসাথে মোছা হয়।

ফ্ল্যাশ মেমোরি ইইপিরমের উন্নত সংস্করণ। পার্থক্য হলো মোছার একক বাইট নয়, ব্লক।

ন্যান্ড ফ্ল্যাশের গঠন

ন্যান্ড ফ্ল্যাশে কোষগুলো শ্রেণিতে সাজানো, ঠিক ন্যান্ড গেটের মতো। এতে জায়গা কম লাগে, তাই বেশি ঘন হয়।

একটি ব্লকে সাধারণত ৬৪ থেকে ৫১২ টা পেজ থাকে। প্রতিটি পেজ ৪ কিলোবাইট থেকে ১৬ কিলোবাইট।

লেখা হয় পেজে পেজে। মোছা হয় ব্লকে ব্লকে।

এসএলসি, এমএলসি ও টিএলসি

প্রতিটি ফ্ল্যাশ কোষে কত বিট রাখা যাবে তার উপর নির্ভর করে তিনটি প্রকার আছে।

ফ্ল্যাশের বিভিন্ন প্রকার
প্রকার প্রতি কোষে বিট গতি স্থায়িত্ব ব্যবহার
এসএলসি ১ বিট দ্রুত বেশি (১ লক্ষ চক্র) শিল্প, সার্ভার
এমএলসি ২ বিট মাঝারি মাঝারি (১০ হাজার চক্র) ভোক্তা এসএসডি
টিএলসি ৩ বিট ধীর কম (৩ হাজার চক্র) পেনড্রাইভ, স্মার্টফোন
কিউএলসি ৪ বিট ধীর খুব কম সস্তা স্টোরেজ

রম দিয়ে বায়োস ও ফার্মওয়্যার

গাড়ির ইঞ্জিন ম্যানুয়ালের উপমা

গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতে হলে প্রথমে কয়েকটা মূল পদক্ষেপ নিতে হয়। এই পদক্ষেপগুলো ম্যানুয়ালে লেখা আছে এবং পরিবর্তন হয় না।

কম্পিউটারের বায়োস ঠিক এরকম। কম্পিউটার চালু হলে প্রসেসর প্রথমে বায়োস রম থেকে নির্দেশ পড়ে। বায়োস হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করে এবং অপারেটিং সিস্টেম চালু করে।

বায়োস রমের বিবর্তন

পুরনো কম্পিউটারে মাস্ক রম বা প্রম দিয়ে বায়োস তৈরি হতো। কোনো সমস্যা থাকলে পুরো চিপ বদলাতে হতো।

পরে ইইপিরম ব্যবহার শুরু হলো। তখন বায়োস আপডেট করা সম্ভব হলো।

আধুনিক কম্পিউটারে ফ্ল্যাশ মেমোরিতে বায়োস থাকে। ইন্টারনেট থেকে নতুন বায়োস ডাউনলোড করে আপডেট করা যায়।

বায়োস আপডেটের ইতিহাস
যুগ রমের প্রকার আপডেট পদ্ধতি
১৯৮০ দশক মাস্ক রম, প্রম চিপ বদলানো ছাড়া সম্ভব নয়
১৯৯০ দশক ইপিরম অতিবেগুনি আলোয় মুছে নতুন চিপ প্রোগ্রাম
২০০০ দশক ফ্ল্যাশ সফটওয়্যার দিয়ে আপডেট, চিপ না খুলেও
বর্তমান ফ্ল্যাশ (ইউইএফআই) ইন্টারনেট থেকে স্বয়ংক্রিয় আপডেট

বিস্তারিত উদাহরণ

উদাহরণ ১: রম দিয়ে সাত-খণ্ড প্রদর্শক ডিকোডার

বিসিডি (০ থেকে ৯) থেকে সাত-খণ্ড প্রদর্শকের জন্য ডিকোডার রম দিয়ে তৈরি করো।

ইনপুট: ৪ বিট বিসিডি (D3D2D1D0), মোট ১৬টি ঠিকানা। আউটপুট: ৭ বিট (a,b,c,d,e,f,g), প্রতিটি সেগমেন্টের জন্য এক বিট।

রমের আকার: ১৬×৭ বিট।

সাত-খণ্ড ডিকোডার রমের বিষয়বস্তু
দশমিক D3D2D1D0 a b c d e f g
০ ০০০০ ১ ১ ১ ১ ১ ১ ০
১ ০০০১ ০ ১ ১ ০ ০ ০ ০
২ ০০১০ ১ ১ ০ ১ ১ ০ ১
৩ ০০১১ ১ ১ ১ ১ ০ ০ ১
৪ ০১০০ ০ ১ ১ ০ ০ ১ ১
৫ ০১০১ ১ ০ ১ ১ ০ ১ ১
৬ ০১১০ ১ ০ ১ ১ ১ ১ ১
৭ ০১১১ ১ ১ ১ ০ ০ ০ ০
৮ ১০০০ ১ ১ ১ ১ ১ ১ ১
৯ ১০০১ ১ ১ ১ ১ ০ ১ ১

এই রম চিপে ১০টি ঠিকানায় উপরের মান এবং বাকি ৬টি ঠিকানায় (১০ থেকে ১৫) যেকোনো মান (সাধারণত সব ০) লেখা থাকে।

উদাহরণ ২: রম দিয়ে অর্ধযোগকারী

রম দিয়ে অর্ধযোগকারী তৈরি করো।

ইনপুট: A ও B, দুটি বিট, মোট ৪টি ঠিকানা। আউটপুট: যোগফল S ও ক্যারি C, দুটি বিট।

রমের আকার: ৪×২ বিট।

অর্ধযোগকারী রমের বিষয়বস্তু
ঠিকানা (AB) C (ক্যারি) S (যোগফল) ব্যাখ্যা
০০ ০ ০ ০+০=০
০১ ০ ১ ০+১=১
১০ ০ ১ ১+০=১
১১ ১ ০ ১+১=১০

সুবিধা: এক্স-অর গেট ও অ্যান্ড গেটের বদলে একটি রম চিপ ব্যবহার করা হলো। ভবিষ্যতে লজিক পরিবর্তন করতে শুধু রমের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করলেই হবে।

উদাহরণ ৩: ইইপিরম-এ কনফিগারেশন সংরক্ষণ

একটি ডিজিটাল থার্মোস্ট্যাটে ইইপিরম ব্যবহার হয়। ব্যবহারকারী তাপমাত্রার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে সেটা ইইপিরমে সংরক্ষিত হয়।

বিদ্যুৎ চলে গেলেও সেটিং থাকে। নতুন সেটিং দিলে পুরনোটা মুছে নতুনটা লেখা হয়।

একটি ইইপিরম ঘরে লেখার চক্র:

ধাপ ১: মোছার আদেশ পাঠাও (ওই বাইটটি ০xFF করো)। ধাপ ২: ১০ মিলিসেকেন্ড অপেক্ষা করো। ধাপ ৩: নতুন মান লেখো। ধাপ ৪: ১০ মিলিসেকেন্ড অপেক্ষা করো। ধাপ ৫: পড়ে যাচাই করো।

অনুশীলনী

১. মাস্ক রম ও প্রম-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: মাস্ক রম কারখানায় তৈরির সময় প্রোগ্রাম করা হয়, ব্যবহারকারী কিছু করতে পারে না। প্রম কারখানা থেকে অপ্রোগ্রামড আসে, ব্যবহারকারী একবার প্রোগ্রাম করতে পারে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই একবার প্রোগ্রাম হলে পরিবর্তন করা যায় না।

২. ইপিরম চিপের উপরে কাচের জানালা কেন থাকে?

উত্তর: অতিবেগুনি আলো দিয়ে চিপের তথ্য মুছতে হয়। কাচের জানালা দিয়ে অতিবেগুনি আলো ভেতরে পৌঁছায়। আলো না দিলে জানালা অপাক স্টিকার দিয়ে ঢেকে রাখা হয় যাতে ঘরের আলোয় তথ্য না মুছে যায়।

৩. রম দিয়ে যেকোনো লজিক ফাংশন বাস্তবায়ন করা যায় কেন?

উত্তর: কারণ n ইনপুটের যেকোনো ফাংশনের সর্বোচ্চ ২nটি সম্ভাব্য ইনপুট সমন্বয় আছে। রমে প্রতিটি সমন্বয়ের জন্য আউটপুট মান লিখে রাখা যায়। ইনপুটকে ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করলে যেকোনো ফাংশনের সত্যক সারণী রমে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

৪. ফ্ল্যাশ মেমোরিতে মোছা ও লেখা কেন আলাদা একক?

উত্তর: ফ্ল্যাশ মেমোরির ভৌত গঠনে বাইট বা বিট ধরে মোছা সম্ভব নয়, কারণ কোষগুলো শ্রেণিতে সাজানো। একটি কোষ মুছতে হলে পুরো শ্রেণিতে উচ্চ ভোল্টেজ দিতে হয়। তাই ব্লক ধরে মোছা হয়। কিন্তু লেখা পেজ ধরে হয় কারণ সেটার আলাদা সার্কিট আছে।

৫. ২-থেকে-৪ ডিকোডারে ঠিকানা ১০ দিলে কোন ওয়ার্ড লাইন সক্রিয় হবে?

উত্তর: A1=১,A0=০ হলে W2=A1⋅A0‾=১⋅১=১। তাই W2 সক্রিয় হবে।

৬. এসএলসি ও টিএলসি ফ্ল্যাশের মধ্যে কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য এবং কেন?

উত্তর: এসএলসি বেশি নির্ভরযোগ্য। কারণ এতে প্রতিটি কোষে মাত্র একটি বিট থাকে, তাই ভোল্টেজ স্তরের মধ্যে পার্থক্য বেশি এবং ত্রুটির সম্ভাবনা কম। টিএলসিতে একটি কোষে তিনটি বিট থাকায় আটটি ভোল্টেজ স্তর আলাদা করতে হয়, যা কঠিন এবং ত্রুটির সম্ভাবনা বেশি।

৭. একটি রমে ১২ বিটের ঠিকানা এবং ৮ বিটের ডেটা আছে। মোট ধারণক্ষমতা কত?

উত্তর: মোট ঘর = ২১২=৪০৯৬। প্রতিটিতে ৮ বিট = ১ বাইট। মোট ধারণক্ষমতা = ৪০৯৬ বাইট = ৪ কিলোবাইট।

৮. বায়োস আপডেট করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে কী সমস্যা হতে পারে?

উত্তর: বায়োস আপডেটের সময় ফ্ল্যাশ রম মুছে নতুন বায়োস লেখা হচ্ছে, মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্ল্যাশের কিছু অংশ মুছে যাবে এবং কিছু অংশ পূর্ণ থাকবে। ফলে বায়োস অসম্পূর্ণ বা ভ্রষ্ট হয়। কম্পিউটার আর চালু হয় না কারণ প্রসেসর বৈধ নির্দেশ পায় না।

[[টেমপ্লেট:BOOKCATEGORY]]